কেস স্টাডি

“দক্ষতা নিয়ে জীবনমানের পরিবর্তন : কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে উবার ড্রাইভার“

নাম: রফিকুল ইসলাম


পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক কৃষক পরিবারের ছেলে রফিকুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকে তার পথ সুগম ছিল না। পাঁচ ভাইবোনের সংসারের ভরনপোষণ করা তার কৃষক বাবার পক্ষে খুব কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা এবং আর্থিক অসচ্ছলতার ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠেছেন রফিকুল। তবুও দমে যাননি। ঢাকার মিরপুর দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসার বোর্ডিং-এ থেকে পড়াশুনা শুরু করেন। অনেক কষ্ট করে, খেয়ে-না খেয়ে কাফিয়া (স্নাতকের মতো) পাশ করলেও তেমন কোন কাজ যোগাড় করতে পারেননি। পারছিলেন না পরিবারে কোন আর্থিক সহযোগিতা করতে। খুবই হতাশার মধ্যে দিন কাটছিল তার।

পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তিনি বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে থাকেন। কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ‘ইকরা’-এর মাধ্যমে 2016 এর ডিসেম্বরে তিনি জানতে পারেন এটুআই প্রোগ্রামের সহযোগিতায় কারিগরী ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শুরু হবে। তিনি বিআরটিসি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে চার সপ্তাহ মেয়াদি ড্রাইভিং কোর্সে ভর্তি হন ও সফলতার সাথে শেষ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এ পরীক্ষা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পান।

গত এপ্রিল ২০১৭-এ তিনি স্থানীয় এক মালিকের উবার ড্রাইভার হিসাবে চাকরি নেন। বর্তমানে তিনি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। তার মতে, প্রত্যেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর উচিত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে কোন না কোন ট্রেডে দক্ষতা লাভ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া। এতে করে সবাই স্বীয় জীবনমান পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে পারবে। বিস্তারিত....

  • ২৬ জেলার

    ৫০ উপজেলায় প্রশিক্ষণ,
  • ২৫,০০০+

    কওমি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ,
  • ৯০০০+

    নারী প্রশিক্ষণার্থী,

উনিশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার মাধ্যমে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন হয়। দেওবন্দ মাদরাসার অনুসরণ করে বাংলাদেশেও কওমি মাদরাসা শিক্ষা ধারা চালু হয়। বাংলাদেশে কওমি শিক্ষাধারায় ৬৪টি জেলার ৫২১টি উপজেলায় কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৫টি এবং হেফজ মাদ্রাসার সংখ্যা ১২ হাজার ৬৬৭টি। বর্তমানে এতে ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। এ সকল শিক্ষার্থীরা মূলত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষায় পারদর্শী হওয়ার জন্য পড়াশুনা করছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায় ইসলামিক বিষয় ছাড়াও একাধিক ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও তর্কশাস্ত্রের মতো বিভিন্ন বিষয় তাদের সিলেবাসভুক্ত রয়েছে কিন্তু এ শিক্ষার মাধ্যমে কর্মের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। কওমি ধারায় পড়া শেষে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদরাসায় শিক্ষকতা ছাড়া বলার মতো আর কোন চাকরির সুযোগ নাই। এই তিন সেক্টরেই নির্দিষ্ট কোন বেতন কাঠামো না থাকার ফলে ২,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকার মধ্যে তাদের আয় সীমাবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ি, কওমি মাদরাসার এ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদেরকে উন্নয়নের মূলধারায় আনয়নের লক্ষ্যে এটুআই প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।

উদ্ভাবনী চর্চা

  • কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।
  • দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান/আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকারত্ব দূরীকরণ।
  • কওমি ধারার শিক্ষার্থীদেরকে উন্নয়নের মূল ধারায় আনয়ন।
  • দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি একটি বিশেষ ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাকুরির সুযোগ তৈরি।

উল্লেখযোগ্য ট্রেডসমূহ

  • ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং
  • আমিনশিপ, মোবাইল সার্ভিসিং
  • টেইলারিং
  • মৎস্য চাষ
  • গবাদি পশু পালন
  • গরু মোটাতাজাকরণ
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • নকশী কাঁথা
  • ব্লক-বাটিক
  • ব্যাগ তৈরী
  • টুপি তৈরী
কেস স্টাডি

“কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপার্জন বৃদ্ধি : ইমামতির পাশাপাশি উদ্যোক্তা“

নামঃ মোঃ আবুল হাসান
মাতাঃ নেওয়ারুন নেসা
গ্রামঃ জানাইয়া
উপজেলাঃ বিশ্বনাথ
জেলাঃ সিলেট


সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার অন্তর্গত জানাইয়া গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমান ও নেওয়ারুন নেসা-এর দ্বিতীয় পুত্র মোঃ আবুল হাসান। পিতা রিক্সা চালক ও মাতা গৃহিনী। ছোটবেলা থেকেই প্রখর মেধাবী ছিলেন তিনি। পরিবারে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন থাকার দরুণ তার পিতা তাকে স্থানীয় এক বড় মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। তার আশা ছিল ছেলে একদিন মস্ত বড় আলেম হবে এবং ধর্মীয় শিষ্টাচার পালনের সাথে সাথে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। তিনি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যে কষ্ট সহ্য করেছেন তার ছেলের সে অবস্থা হবে না। আবুল হাসান মাদরাসার লিল্লা বোর্ডিং-এ থেকে খেয়ে ভালো আলেম হন এবং নিজ গ্রামের ‘জানাইয়া জুম্মা বাড়ী জামে মসজিদ’-এ ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু মাদরাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রী (দাওরা/মাস্টার্স) অর্জন করেও তিনি দেখেন তিনি মাত্র ৩১০০ টাকা মাসিক বেতন পাচ্ছেন অথচ তার অপর দুই ভাই অল্প শিক্ষিত হয়েও তার চাইতে অনেক বেশি উপার্জন করেন। বিয়ে করার পরে আবুল হাসান দেখেন পিতা-মাতার বয়স বৃদ্ধির ফলে তারা নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ফলে ব্যয় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে অপর দিকে উপার্জন এতোটাই স্বল্প যে মৌলিক চাহিদাগুলো মিটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এমতাবস্থায় তিনি উপলব্ধি করেন, ইমামতির পাশাপাশি এমন কিছু করা দরকার যা তার উপার্জন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আর তিনি মনে মনে এমন কিছু একটা করতে চাচ্ছিলেন যার মাধ্যমে তার আয় বাড়বে কিন্তু ইমামতিতে কোন ব্যাঘাত ঘটবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা পর্যায়ে মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি জানতে পারেন যে এখন থেকে প্রতিটি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এর সহযোগিতায় যে কোন একটি কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তিনি সাথে সাথে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেন এবং সিলেট ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে “ইলেক্ট্রক্যাল হাউজ ওয়ারিং”-এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

এখন তিনি মসজিদের পাশে ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়েছেন। মসজিদের দায়িত্ব পালনের পর অবসর সময়ে তিনি এই দোকানটি পরিচালনা করেন। কখনো বাড়িতে গিয়ে আবার কখনো বাজার বা কারখানায় গিয়ে তিনি সার্ভিস দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং-এর কাজ করে দৈনিক ৭০০-১০০০ টাকা উপার্জন করছেন। তিনি মনে করেন, প্রতিজন ইমাম-মুয়াজ্জিনের উচিত এটুআই-এর এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া। নিজে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

  • ১০০০০+

    ইমাম প্রশিক্ষণ
  • ৭টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

    ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, দিনাজপুর ও সিলেট।

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে এটুআই প্রোগ্রাম ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইমাম-মুয়াজ্জিনগণের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বিষয়ক চাহিদা নিরূপণ, বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও কর্মসংস্থান/আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। এর ফলে ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ নিজ পেশার পাশাপাশি অন্যান্য আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক কাজে সম্পৃক্ত হতে পারছেন। এ উদ্যোগ তাদের আয় বাড়ানোর মাধ্যমে তাদেরকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় আনয়নে ভূমিকা রাখছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনগনকে ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দানের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদেরকে উপার্জনক্ষম এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার মত উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই ইমাম প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

উদ্ভাবনী চর্চা

  • কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইমাম মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়ন করা।
  • দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি
  • কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মৌলিক জ্ঞান আহরণ
  • সমাজ সচেতনতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা প্রতিরোধে নিজ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন হওয়া

উল্লেখযোগ্য ট্রেডসমূহ

  • কৃষি ও বনায়ন
  • প্রাণী সম্পদ পালন
  • মৎস্য চাষ
  • বৃক্ষরোপন
  • মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং
আমাদের পার্টনারসমূহ
  • Image
কেস স্টাডি

“আল্লাহর ইচ্ছায় আমার চাকুরী বাঁচাল ইমাম বাতায়ন”

মাওলানা আইনুল ইসলাম
ইমাম, আল-মদিনা জামে মসজিদ
ইউনিয়ন-মেদুয়ারী
উপজেলা-ভালুকা
জেলা-ময়মনসিংহ


ময়মনসিংহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের আমি একজন সাধারণ ইমাম। স্বল্প বেতনে আজ চার বছর হল আল-মদিনা জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। একজন ইমাম হিসেবে এলাকার মুসল্লিদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকি। একদা আমার মসজিদের সভাপতি সাহেব একটি জটিল মাসআলার ইসলামিক সমাধান চাইলেন। প্রশ্নটি হল এইরূপ “সভাপতি সাহেব এলাকার সম্ভ্রান্ত, বিশ্বস্ত সম্পদশালী ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে ঐ অঞ্চলের পূজা কমিটির ক্যাশিয়ার বানাতে চায়, একজন মুসলিম হিসাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ বৈধ হবে কিনা?” আমি এই প্রশ্ন শুনে ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ বিষয়টি ধর্মীয় ও সামাজিক উভয় বিচারে খুব জটিল। এবং এর উত্তর জানা না থাকায় খুব বিচলিত হয়ে পড়লাম। আমার কাছের বন্ধুদের বিষয়টি জানালে তারাও সমাধান দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। যেহেতু এর উত্তর আমার জানা নেই এবং সভাপতি উপস্থিত এর উত্তর জানতে চাচ্ছেন তাই ভয় পাচ্ছিলাম, এই ভেবে যে আমার চাকরী বুঝি গেল। কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। হঠাৎ আমার মাথায় এলো “ইমাম বাতায়ন”-এর কথা। আমি দ্রুত সভাপতি সাহেবের স্মার্ট ফোনটি চেয়ে নিলাম এবং ইমাম বাতায়নে লগইন করে “মাসআলা-মাসায়েল” নামক ম্যানুতে এর উত্তর খুঁজা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম।

---উত্তর পেয়ে আমি তো আনন্দে আত্মহারা- মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমার চাকুরী বাঁচাল ইমাম বাতায়ন । উত্তর না পেলে সভাপতি হয়তো আমাকে বাদ দিয়ে দিতেন। ইমাম বাতায়ন ও এটুআই-এর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি অত্যন্ত আশাবাদী ইমাম বাতায়ন যুগ যুগ ধরে ইমামগণের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিবে। আমি সত্যিই খুশি এবং আনন্দিত। ইমাম বাতায়নের সাথেই থাকবো। বিস্তারিত....

  • ১২০০০০+

    সদস্য
  • ৭০০০+

    কন্টেন্ট
  • ৪৫০০+

    ব্লগ, মাসায়ালা মাসায়েল, কিতাব
  • ২০০০+

    অডিও, ভিডিও
  • ৫০০+

    অন্যান্য কন্টেন্ট

দেশের ৩ লক্ষ ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে অনলাইনে একটি প্লাটফর্মে আনয়নের লক্ষ্যে এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘ইমাম বাতায়ন’ তৈরি করা হয়েছে। এ বাতায়নে ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ নিয়মিত মাসলা-মাসায়েল, সাপ্তাহিক খুতবা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী ফতোয়া, কিতাব, সাম্প্রতিক বিষয়াদিসহ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কনটেন্ট শেয়ার করেন। এ পোর্টালের মাধ্যমে ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ তাদের নিজ নিজ পেশার বাইরে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ চাহিদা দিতে পারবেন ও বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

উদ্ভাবনী চর্চা

  • সকল ইমাম-মুয়াজ্জিনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা সম্পর্ক তৈরি।
  • ইসলামিক বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ।
  • নিয়মিত বিভিন্ন ফতোয়া, কিতাব, ব্লগ, কন্টেন্ট
  • কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বিষয়ক তথ্য প্রদান ও চাহিদানুযায়ী ট্রেডে রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে ইমামদের দক্ষতা উন্নয়ন করা।

আমাদের পার্টনারসমূহ
  • Image
  • Image
কেস স্টাডি

“এটুআই এর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফ্রিল্যান্সার হয়ে নিজের ভাগ্য পালটে দিলেন নাদিরা“

স্বামী ও এক কন্যাকে নিয়ে ২৩ বছর বয়সী নাদিরার ছিল অভাবের সংসার। তার স্বামীর নির্দিষ্ট কোন সম্মানজনক আয়ের উৎস না থাকায় তাদের পরিবার আর্থিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল ছিল। কিন্তু অভাবের কাছে পরাজিত না হয়ে নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করার স্বপ্ন দেখেন নাদিরা। আর তার সেই স্বপ্নকেই যেন সত্যি করার সুযোগ নিয়ে আসে এটুআই।

এটুআই প্রোগ্রাম, এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত “দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন” কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে পারেন নাদিরা। নাদিরা যখন জানতে পারেন যে এক মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তার পক্ষে ফ্রিল্যান্সার/ উদ্যোক্তা হয়ে উঠা সম্ভব হবে তখন তিনি এ প্রশিক্ষণে যোগদান এর সিদ্ধান্ত নেন এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে শুরু করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়েই ফ্রিল্যান্সিং করে “পিপল পার আওয়ার” ওয়েবসাইটে কয়েক শত টাকা উপার্জন করা শুরু করেন নাদিরা। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ‘ফিভার’ ওয়েবসাইটে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। এর প্রায় এক বছর হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তার মাসিক আয় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা।

ভাগ্য পরিবর্তনের এ যাত্রা সম্পর্কে নাদিরা বলেন, "আমার স্বামী ও আমি দুজনেই এখন পরিবারের খরচ চালাতে অবদান রাখতে পারি এবং আমাদের পরিবারকে আর আর্থিকভাবে সংগ্রাম করতে হয় না। এটুআই এর এ কর্মসূচী আমার ভাগ্য বদলে দিয়েছে"।

  • ২০৮ ঘন্টা

    ১ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষন
  • ৩,০০০+

    প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা/ফ্রিল্যান্সার
  • ২টি

    ট্রেড- ওয়েব ডিজাইন ও গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ৬৪টি

    জেলা

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। তাই নারীদের পেছনে ফেলে কেবল পুরুষদের নিয়ে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ অর্জন এর লক্ষ্যে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটলেও নারীরা, বিশেষত গ্রামীণ নারীরা এখনো প্রত্যাশার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন। আত্মবিশ্বাস ও আত্মকর্মসংস্থান এর অভাবে এদের অনেকেই সারাজীবন অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকেন। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে এবং রূপকল্প ২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি এর সাথে যৌথ উদ্যোগে এটুআই প্রোগ্রাম দেশব্যাপী ‘নারী আইসিটি ফ্রি-ল্যান্সার এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি’ গ্রহণ করে।

এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে নারীরা যেন প্রশিক্ষণ শেষে ফ্রিল্যান্সার কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন তা নিশ্চিত করা। এ প্রশিক্ষণের আওতায় ইন্টারনেট বিষয়ক মৌলিক শিক্ষা থেকে শুরু করে ফটোশপ বা সিএসএস পর্যন্ত গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ওয়েব ডিজাইন এর সবকিছুই শেখানো হয়। এর ফলে কম্পিউটার সম্পর্কে স্বল্পজ্ঞান থাকা নারীরাও সহজেই এ প্রশিক্ষণের সাথে তাল মেলাতে পারেন।

উদ্ভাবনী চর্চা

  • নারী উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার তৈরি
  • বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ
  • টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন
  • ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন

আমাদের পার্টনারসমূহ
  • Image
  • Image
  • Image

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কৃষিজ ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে প্রাপ্ত ঋণ এর অর্থ তারা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারতেন না বিধায় এ প্রকল্প ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়। এমতাবস্থায় গত ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সাথে এটুআই প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় এটুআই প্রোগ্রাম বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের গ্রামীণ যুবক, নারী এবং কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।

  • ০৫ দিন

    ব্যাপী প্রশিক্ষণ
  • ৩ লক্ষ

    উপকারভোগী
  • ৭,০০০+

    উপকারভোগীর প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
  • ১০+

    কৃষিজ ট্রেড
  • ৩৬+

    প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
    (যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর)
  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াধীন

উদ্ভাবনী চর্চা

  • তৃণমূল পর্যায়ে স্বাবলম্বী জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা
  • বিভিন্ন কৃষিজ ট্রেডে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
  • নিত্যনতুন চাহিদাপূর্ণ কৃষিজ ট্রেড অনুসন্ধান
  • এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে খাদ্য ও পুষ্টির স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন

উল্লেখযোগ্য ট্রেডসমূহ

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ট্রেডগুলো হলো-

  • দুগ্ধবতী গাভী পালন
  • গরু মোটাতাজাকরণ
  • মুরগী পালন ব্যবস্থাপনা
  • ছাগল ও ভেড়া পালনব্যবস্থাপনা
  • গবাদিপশু ও হাঁসমুরগী টিকাদান
  • কবুতর, কোয়েল, টার্কি ও সৌখিন পাখি পালন
  • টার্কি ও সৌখিন পাখি পালন
  • নার্সারী ব্যবস্থাপনা
  • মৌচাষ
  • মৎস্য চাষ
  • সবজি চাষ
Contact
একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)
E-mail: skills@a2i.gov.bd
Phone:+1-202-555-0183
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে
Imagr
কারিগরি সহায়তায়
Imagr