কেস স্টাডি

“এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রশিক্ষণ থেকে সেলাই শিখে পরিবারের হাল ধরেছেন পোশাক তৈরির কারিগর চাঁদপুরের শারমিন।“

শারমিন আক্তার পরিবারের বড় সন্তান। বাবা-মা ও পাঁচ ভাই-বোন নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। তার বাবা মোঃ মনির হোসেন শেখ একজন দরিদ্র কৃষক। সাতজনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। এমন অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষার পর অভাবের তাড়নায় বন্ধ হয়ে যায় শারমিনের লেখাপড়া। আর পরিবারের জন্য সে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিবারে কোন আর্থিক সহায়তাও করতে পারছিল না শারমিন। দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়েছে তার। এছাড়াও মাথার উপর ছিল বিয়ের খড়গ। কি করবে বুঝতে পারছিল না শারমিন।

কিন্তু এই অন্ধকার থেকে তাকে আলোর পথে নিয়ে আসে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শারমিন জানতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেলাই বিষয়ক এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম শুরু হচ্ছে। হাতে-কলমে এ প্রশিক্ষণ শেষে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট দেয়া হবে এবং মিলবে কাজ করার সুযোগ। এরপরই পরিবারের সাথে আলোচনা করে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ভর্তি হন নভেম্বর সেশনে। ছয় মাসব্যাপী সালোয়ার-কামিজসহ বিভিন্ন ধরণের পোশাক তৈরি বিষয়ক হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পান। প্রশিক্ষণ শেষে এর ভাতা দিয়ে দুটি সেলাই মেশিন কিনে নিয়ে বাড়ির পাশেই মাছুম টেইলার্সে কাজ শুরু করে শারমিন। এই থেকে শুরু শারমিনের সাফল্যের পথচলা। কত রং-বেরঙ আর নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরির কারিগর শারমিন; তার পরিবারের লোকজনের পোশাক তৈরির পাশাপাশি মাসে ৮ হাজার টাকা আয় করছে। এই টাকা দিয়ে ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচও চালাতে পারছে। দুঃখ ঘুচে হাসি ফুটেছে তার পরিবারে। আর শারমিন স্বপ্ন দেখছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার। শারমিন আশাবাদী তাকে দেখে গ্রামের আরো অনেকেই ভাগ্য ফেরানোর এই যাত্রায় শামিল হবে। এই প্রশিক্ষণ শুধু তারই নয়, পাল্টে দিবে এলাকা ও সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র। গড়ে উঠবে দিন বদলের কারিগর।

  • ৬ মাস

    প্রশিক্ষণ মেয়াদ
  • ২৭০০+

    এ্যাপ্রেনটিস এর প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
  • ৩৫,০০+

    ইনফরমাল শিল্প-প্রতিষ্ঠান
  • ৩৫০+

    ফরমাল শিল্প-প্রতিষ্ঠান
  • ৫০+

    ট্রেড
  • ১২৩+

    উপজেলা

সবার জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরন ও মাথাপিছু রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম দেশে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরিতে সুদূর প্রসারী ভূমিকা পালন করছে। বেকার যুবক-যুব মহিলাগণকে চাহিদা ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ সরবরাহের ফলে অধিক দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি হচ্ছে যা শিল্প- প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ও কাঁচামালের অপচয় রোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম ১৭- ৩০ বছর বয়সীদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণের একটি সমন্বিত মিশ্রণ। এর ফলে বেকার যুবক-যুব মহিলারা বিভিন্ন ট্রেডে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারছেন। ব্যবসা বড় অথবা ছোট যাই হোক না কেন, একজন দক্ষ কর্মী ব্যাবসার উৎপাদন এবং মুনাফা বৃদ্ধি করতে পারে। এ্যাপ্রেনটিস নিয়োগ শিল্প- প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে যা ভবিষ্যতে ব্যবসার বিকাশ ও প্রতিযোগিতার জন্য জরুরি।

উদ্ভাবনী চর্চা

  • দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি
  • বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্ম সংস্থান সৃষ্টিকরণ।
  • অধিক কার্যকর শিল্প-প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
  • এ্যাপ্রেনটিসশিপ সংক্রান্ত ব্যয় করমুক্ত, প্রশিক্ষনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি শুল্কমুক্ত

উল্লেখযোগ্য ট্রেডসমূহ

ফরমালঃ

  • কুকিং
  • ফুড এন্ড ব্যাবারেজ সার্ভিস
  • হউসকিপিং
  • রিসিপশন
  • লেদার গুডস মেশিন অপারেটর
  • ফুটওয়্যার মেশিন অপারেটর
  • কারপেন্ট্রি
  • লেকার পলিশিং

ইনফরমালঃ

  • ইলেক্ট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং
  • ফওয়েল্ডিং
  • গ্লাস এন্ড মিরর ফিটিং
  • কাঠ মিস্ত্রী
  • কাঠ নকশার কাজ
  • পেইন্টিং ও ফার্নেসিং এন্ড পলেশিং
  • মোবাইল সার্ভিসিং
  • মোটর সাইকেল মেকানিক
  • অটো মোবাইল মেকানিক
  • টাইলস ফিটিং
  • স্টিল ফার্নিচার মেকিং
  • টেইলরিং এ্যান্ড ড্রেস মেকিং
  • বেকারী
  • প্যাকেজিং
  • ওয়েটার
  • রিসিপশন
  • রুম সার্ভিসিং
  • কুক প্রভৃতি
আমাদের পার্টনারসমূহ
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image

রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে দক্ষ জনগোষ্ঠীর কোন বিকল্প নেই। সবার জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ ও মাথাপিছু রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটুআই প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো ‘কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা’। ‘সমাজের কোন অংশকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন নয়’-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে মূলমন্ত্র ধরে এটুআই প্রোগ্রামের তরফ থেকে নানাবিধ দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ্কসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও বাংলাদেশে ইকোনোমিক জোনস অথরিটি (বেজা) এর যৌথ উদ্যোগে ইকোনোমিক জোনভুক্ত শিল্প-প্রতিষ্ঠানের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত ১০টি ইকোনমিক জোনের (মীরসরাই, কক্সবাজার, ফেনী, মৌলভীবাজার, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, মংলা, মেঘনা, মোনেম, বে ইকোনমিক জোন) জন্য কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে এ জোনসমূহের চাহিদা মোতাবেক দক্ষ কর্মী তৈরি করে জোনভুক্ত শিল্প-প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। এর ফলে জোনসমূহ দক্ষ কর্মী পাবে ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

ইতিমধ্যে, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (BEZA)-এর যৌথ উদ্যোগে ইকোনমিক জোনসমূহের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান চাহিদা নিরূপণের লক্ষ্যে “A Journey towards Developed Country: Sustainable Employment Opportunities and Skills Demand in Economic Zones” শিরোনামে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। ইকোনমিক জোনভুক্ত শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহের কোন সময়ে কোন দক্ষতার কর্মী প্রয়োজন, তা এই গবেষণার মাধ্যমে নিরূপিত হয়েছে।

  • ইকোনমিক জোন ১০+
  • শ্রধান শিল্পপণ্য- হিমায়িত খাদ্য
  • প্লাস্টিক পণ্য
  • পোশাক
  • চামড়াজাত পণ্য
  • ফ্ল্যাট নির্মাণ সামগ্রী
  • ঔষধ
  • পাটজাত পণ্য
  • সফটওয়ার ও হার্ডওয়ার
  • বেকারি ও খাদ্য সামগ্রী
  • জাহাজে প্রেরণযোগ্য পণ্য
  • সিমেন্ট ও সিরামিক ইত্যাদি

উদ্ভাবনী চর্চা

  • ইকোনোমিক জোনভুক্ত শিল্প-প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি
  • বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ
  • জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি।
আমাদের পার্টনারসমূহ
  • Image
কেস স্টাডি

দেশের সীমানা পেড়িয়ে বিদেশের মাটিতে সফল

নাম: মোঃ মাহবুবুর রহমান
পিতা: আফাদ উদ্দিন (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
মাতা: জাহারা বেগম
উপজেলা: গোয়াইনঘাট
জেলা: সিলেট
গমন: সেসালস
পদবী: সুপারভাইজার

মোঃ মাহবুবুর রহমান পরিবারের ৭ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। বাবা মৃত আফাদ উদ্দিন (বীর মুক্তিযোদ্ধা), মাতা জাহারা বেগম (মৃত), স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। এক পুত্র সন্তানের জনক। তার সংসারটি অত্যন্ত গোছালো ও পরিপাটি। সবাইকে নিয়ে সুখের সংসার। কিন্তু বছরখানেক আগেও তার পরিবারের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। মাতা-পিতার অকাল মৃত্যু ও ভাই-বোনেরা যার যার অবস্থানে পৃথক হয়ে গেলে তিনি বড় বিপদের সম্মুখীন হন। নতুন সংসার অপরদিকে বেকার জীবন। এসএসসি পাশ করা একটি ছেলের পক্ষে বাংলাদেশের বাজারে চাকরী পাওয়া খুবই দুরূহ ব্যাপার। জীবন অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটতে থাকে। কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছিলেন না।

এমতাবস্থায় তিনি তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে “বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম” সম্পর্কে প্রথম শুনতে পান । তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে জানতে পারেন যে, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর যৌথ উদ্যোগে দক্ষ কর্মী বানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি পথের দিশা খুঁজে পান। তিনি এ প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেন ও নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সেসালস সরকারের চাহিদা মোতাবেক ট্রেডে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেন। প্রশিক্ষণ শেষ করে সনদপত্র ও স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের অদম্য ইচ্ছা নিয়ে ‘জীবন ইনপুটস’ নামক এক বহুজাতিক কোম্পানিতে মাসিক ৫০০ ডলার (থাকা-খাওয়া বাদে) বেতনে পেইন্টার (রং মিস্ত্রী) ট্রেডে সেসালস যান। মাত্র চার মাসের মাথায় মেধা, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কোম্পানির নজর কাড়তে সামর্থ্য হন। এর ফলে তাকে ২২ জনের একটি টিমের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বেতন ৬৫০ ডলার।

তিনি আনন্দিত এই জন্য যে, তার পরিবারের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। স্ত্রী ও এক পুত্র নিয়ে সুখে-শান্তিতে আছেন। এবং এই ইচ্ছা পোষণ করছেন যে, তার মতো পথহারা, অসচ্ছল বেকার যুবকদেরকে সেসালসসহ অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে সোনার বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার পথে পা বাড়াবে।

  • ৭২টি

    টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (বিএমইটি)
  • ৩৮,৫০০+

    দক্ষতা উন্নয়ন
  • সৌদি আরব, ওমান, কাতার ও মালয়েশিয়ায়
    দক্ষ শ্রমিক প্রেরণ
  • বাহরাইন, সেসালস, স্লোভেনিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি
    দেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণ

আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের শ্রমের বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি হচ্ছে সমৃদ্ধ। প্রবাসে থেকে যারা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে তাদের জীবনের বঞ্চনা অনেক। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ নাগরিক বিশ্বের ১৬২টি দেশে কর্মরত। প্রতি বছর প্রায় ৪ লক্ষ নাগরিক কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমন করে এবং তাদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই প্রশিক্ষণবিহীন। এর ফলে যে কাজে তারা যাচ্ছেন সে কাজটুকুও ঠিকমতো পালন করতে পারেন না তারা। বিশেষ করে তাদের কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাবই এর জন্য দায়ী। বর্হিবিশ্বে দক্ষ জনবল প্রেরণের লক্ষ্যে এটুআই প্রোগ্রাম এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর যৌথ উদ্যোগে বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম শুরু করা হয়। এ উদ্যোগের আওতায় প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর সহায়তায় ৫৩টি দেশের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান চাহিদা নিরূপণ বিষয়ক একটি গবেষণা সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে।

উদ্ভাবনী চর্চা

  • বর্হিবিশ্বে দক্ষ জনবল প্রেরণ।
  • রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি।
  • যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরন।
  • অধিক পরিমাণে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের মাধ্যমে বেকারত্বের হার হ্রাসকরণ।

উল্লেখযোগ্য ট্রেডসমূহ

  • কনস্ট্রাকশন
  • ম্যানুফ্যাকচারিং
  • প্ল্যানটেশন
  • সার্ভিস সেক্টরসহ কয়েকটি সেক্টরের বিভিন্ন ট্রেড
বর্তমান প্রেক্ষাপট:

রাজধানীর আসাদ গেটের কাছে ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় গত ১৬ নভেম্বর ২০১৭ থেকে চালু হয়েছে রোবট রেস্টুরেন্ট। এতে খাবার পরিবেশন করছে দুটি রোবট। চীনে তৈরি এই রোবট দুটির একটি নারী ও অন্যটি পুরুষের আদলে গড়া। রোবট দুটির নির্মাতা প্রকৌশলী ম্যাক্স সোয়াজ ও স্টিভেন শেনের কাছ থেকে জানা যায়, এর প্রতিটির ওজন ৩০ কিলোগ্রাম। উচ্চতা ১ দশমিক ৬ মিটার। প্রতিটি রোবট একনাগাড়ে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম। প্রতিটি রোবট বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকা। দুই চীনা প্রকৌশলীর উপলব্ধি, বাংলাদেশ যে এখন তথ্যপ্রযুক্তিতেও উন্নতির পথে রয়েছে, খাবার পরিবেশনে রোবটের ব্যবহার এর একটি উদাহরণ। ধীরে ধীরে অন্যান্য ক্ষেত্রেও রোবটের ব্যবহার বাড়বে বলে তাদের আশা। এছাড়া ফার্নিচার শিল্পে বাংলাদেশে এ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ অটোমেটেড শিল্প কারখানার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে যা বাংলাদেশে শিল্পের অটোমেশনের সূত্রপাতেরই বহিঃপ্রকাশ।

  • ২০১৭-২০২৭ সালে জিডিপিতে ট্যুরিজম সেক্টরের অবদান বৃদ্ধি ৬.১%
  • চামড়া শিল্পের ১০,০০০+ দক্ষ শ্রমিক, ১৪০০+ পেশাদার দক্ষ শ্রমিক
  • ২০২৭ সাল নাগাদ ট্যুরিজম সেক্টরে ৩.৮% কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  • তৈরি পোশাক শিল্পের বুনন সেক্টর এর জিডিপিতে অবদান ৬.৭২%
  • জিডিপিতে তৈরি পোশাক শিল্পের নিটওয়্যার এর অবদান ৬.৩৯%
  • ৪১,৫৬০+ ফার্নিচার শিল্প কারখানায় ২০০,০০০+ দক্ষ ও অর্ধদক্ষ শ্রমশক্তি
  • এগ্রোফুড সেক্টরে ১০০,০০০+ কর্মসংস্থান

শিল্প বিপ্লবের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বর্তমান বিশ্ব ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে ধাবিত হচ্ছে যার মূল ধারণা হল শিল্পের অটোমেশন বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার। বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে শিল্পের অটোমেশনের ফলে যেমন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে তেমনি বিলুপ্ত হচ্ছে সনাতন পেশার কর্মসংস্থান। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনবল উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ট্রেডে মনোনিবেশ এবং অটোমেশনের ফলে সেক্টর ভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানসমূহ চিহ্নিতকরণ, নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা নিরূপণ করা দরকার। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ জনসেবামূলক কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে কিন্তু এখনো এখানে শিল্পের অটোমেশন সুদূরপরাহত। তবে বাংলাদেশে শিল্পের অটোমেশন এর প্রারম্ভ হোক বা না হোক, এর ফলাফল আমাদের অবশ্যই ভোগ করতে হবে যেহেতু বাংলাদেশের সাথে এমন অনেক দেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে যারা শিল্পের অটোমেশনে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ অটোমেশন যা কিনা অর্থনৈতিক উন্নতির একটি প্রয়োজনীয় চালিকাশক্তি। এ প্রেক্ষিতে নীতিনির্ধারকদের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এমন একটি নীতি পরিবেশ সৃষ্টি করা যা কিনা কর্মচ্যুত শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান করবে এবং অভীষ্ট কর্মদক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে।

অটোমেশনের ফলে তৈরি পোশাক, এগ্রো-ফুড, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি এবং ফার্নিচার শিল্পের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থানসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা ও দক্ষতা নিরূপণের লক্ষ্যে এটুআই এর উদ্যোগে সেক্টর ভিত্তিক একটি গবেষণা পত্র তৈরি করা হয়। গবেষণা পত্রের ফলাফল অনুযায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উদ্ভাবনী চর্চা

  • দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি
  • বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্ম সংস্থান সৃষ্টিকরণ।
  • অধিক কার্যকর শিল্প-প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
  • এ্যাপ্রেনটিসশিপ সংক্রান্ত ব্যয় করমুক্ত, প্রশিক্ষনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি শুল্কমুক্ত

উল্লেখযোগ্য ট্রেডসমূহ

  • মেশিন লার্নিং (এআই)
  • ডাটা এনালাইসিস (বিগ ডাটা)
  • রোবোটিকস্, ইন্টারনেট অফ থিংগস
  • ইন্টারনেট অফ থিংগস
  • ব্লকচেইন
  • অগমেন্টেড রিয়েলিটি
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
  • থ্রিডি প্রিন্টিং ও ডিজাইন

রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে দক্ষ জনগোষ্ঠীর কোন বিকল্প নেই। সবার জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ ও মাথাপিছু রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটুআই প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো ‘কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা’। অথচ বিপুল জনসংখ্যার এই বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লক্ষ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে যার মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ অকৃতকার্য হয়। এ সকল শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে অনেক সময় বিপথগামী হয়।

এ প্রেক্ষিতে গত ২৯ মার্চ ২০১৭ তারিখে ‘স্কিলস ট্রেনিং একসেস ইন জেনারেল এডুকেশন (STAGE)’ প্রোগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং ব্র্যাক-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় এটুআই প্রোগ্রাম ও ব্র্যাক যৌথভাবে নবম-দশম শ্রেণির দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ একটি ট্রেডে দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এই উদ্যোগের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এসএসসি সনদের পাশাপাশি কারিগরি বোর্ডের দক্ষতার সনদ লাভ করবে। এর ফলে কোন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও দক্ষতার সনদের মাধ্যমে যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে এবং বাংলাদেশের মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

  • ৬ মাস

    ব্যাপী প্রশিক্ষণ
  • ৬ টি

    জেলায় ১২০ জন শিক্ষার্থী
  • ২টি ট্রেড- ইলেকট্রিক্যাল ও গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • NTVQF লেভেল-১ সার্টিফিকেট অর্জন

উদ্ভাবনী চর্চা

  • ঝরে পড়া ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি
  • সমাজের পিছিয়ে পড়া তরুণদের স্বাবলম্বী করা
  • বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের অন্যতম বিষয় ছিল দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সেই লক্ষ্যে এটুআই সারা দেশে দক্ষতা ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম শুরু করে। ইতিমধ্যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) ও এটুআই প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে আগামী দুই বছরে ৬৪ জেলায় ১ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে যুব সমাজের মধ্যে আত্ম-কর্মসংস্থান রচিত হবে। পাশাপাশি সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাঝে দক্ষতা ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষে ইতিমধ্যে ৩২,০০০ প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। এছাড়া বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি কার্যক্রম, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং অক্সফামের সাথে উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রমও চলছে।

  • উদ্যোক্তা উন্নয়ন
    প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরি
  • ৩৬০

    ঘণ্টাব্যাপী প্রশিক্ষণ
  • বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন NTVQF সনদ লাভ

উদ্ভাবনী চর্চা

  • দেশব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরি
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি
  • বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ

আমাদের পার্টনারসমূহ
  • Image
  • Image
  • Image
Contact
একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)
E-mail: skills@a2i.gov.bd
Phone:+1-202-555-0183
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে
Imagr
কারিগরি সহায়তায়
Imagr